অমিতাভ প্রতিবেদন : সমাজ সাহিত্য সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা ‘অমিতাভ’ এর আয়োজনে ফেসবুক পেজ থেকে সম্প্রচারিত আন্তর্জাতিক ভেসাক ডে-বুদ্ধ পূর্ণিমা উদ্যাপনের ২য় পর্বে ‘বাংলায় বৌদ্ধ দর্শন চর্চা ও আমাদের দায়’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনা গত ৩০ মে রবিবার রাত সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হয়।
অমিতাভ সম্পাদক ও প্রকাশক শ্যামল চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সরাসরি যুক্ত হোন চবি পালি ও সংস্কৃত বিভাগে প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান বড়ুয়া, ঢাবি পালি এন্ড বুড্ডিস্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. দিলীপ বড়ুয়া ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন।
আলোচনার প্রথমে দিলীপ বড়ুয়া বলেন- বৌদ্ধদর্শন চর্চা করতে গেলে অনেকগুলো বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হয় আবার এর বিভিন্ন শ্রেনিবিভাগও রয়েছে। যেকোন গবেষক তার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে। পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের দর্শনের যে তফাৎ রয়েছে সেটাও সবার জানতে হবে।
দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান বড়ুয়া বলেন- তথাগত বুদ্ধের নবলব্দ জ্ঞান-মানবিক ধর্মের মধ্যে অন্ধ বিশ্বাসের স্থান নেই। বুদ্ধ তার মতবাদকে জোর করে প্রতিষ্ঠা করেননি বা চাপিয়ে দেননি। এসে, দেখে, যাচাই করে তবেই নিজের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হলে জীবনের মধ্যে প্রয়োগ করতে বলেছেন। আর তাই একমাত্র বুদ্ধের দর্শনই সার্বজনীন দর্শন হিসেবে স্বীকৃত। দর্শনচর্চায় আমাদের দায় সংকট উত্তোরণে অনুবাদ সেল গঠন, লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা এবং গবেষণা সেল প্রতিষ্ঠা করা জরুরী।
রায়হান রাইন বলেন- বুদ্ধের প্রজ্ঞা-সাম্যের প্রতি আকর্ষণেই দর্শনচর্চা। এ ন্যায় দর্শনের ইতিবাচক দিক হলো সংস্কৃতির অবদান। কিন্তু দর্শনচর্চায় সংকট চিন্তা করতে গেলে বলতে হয়, বৌদ্ধিকচিন্তা থেকে আমার অনেক দূরে, অর্থাৎ স্বার্থপরতা, ভোগবাদিতায় আচ্ছন্ন, যেখানে সংস্কৃতির জায়গা অনুপস্থিত। বৌদ্ধচর্চা শুধু একাডেমিক ডিগ্রির প্রয়োজনে নয়। দর্শন চর্চা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে, যদি না তা জীবনের মধ্যে প্রয়োগ করতে পারি।
পরিশেষে সঞ্চালক শ্যামল চৌধুরী বলেন- বৌদ্ধদর্শনকে যদি সম্প্রদায়গত দর্শন চিন্তা করি তবে আমরা কাক্সিক্ষত অর্জন হবে না। সাংস্কৃতিক দীনতা কাটিয়ে প্রকৃত অর্থে আমাদের সভ্যতা, সংস্কৃতি ও অস্তিত্ব রক্ষার জন্যে বুদ্ধের স্বীয় আদর্শকে, বুদ্ধের দর্শনকে নিজেদের জীবনে প্রয়োগ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন জীবনযাপনই মানব জীবনের সার্থকতা।
দুঘন্টা ব্যাপী ভার্চুয়াল আলোচনার মাঝখানে চৈতী মুৎসুদ্দীর গাওয়া একটি বৌদ্ধ ধর্মীয় গানের মিউজিক ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। অনেক দর্শক মন্তব্য করেন, বিভিন্ন প্রশ্ন করেন এবং আলোচকরা তাদের প্রশ্নের জবাব দেন। পরে আলোচকরা আয়োজকদের এহেন আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আগামীতে এ ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।