বন্ধুত্বের দই-চা

0
37

দিনে দিনে ভারী হচ্ছে বন্ধুত্বের ঋণ। তাই নিজ তাগিদে গত ২ ডিসেম্বর শুক্রবার পুরো দিনটাই পার করলাম প্রিয় বন্ধুদের সান্নিধ্যে থেকে। ঠিক সকাল সাড়ে সাতটায় ঘুম থেকে ওঠে নিজের প্রস্তুতিপর্ব সেরে সাড়ে আটটায় বাসা থেকে রওনা দিলাম।

রাজন বড়ুয়া:

এরপর বন্ধু সালাউদ্দিনকে ফোন দিয়ে ঘুম ভাঙানো থেকে শুরু করে একেখান গেইট পর্যন্ত আসার জন্য তাগাদা দিতে দিতে দশটা বাজলো। আমি নয়টার সময় একেখান পৌঁছার পর ফোন করলাম অঞ্জনকে। অঞ্জন শারীরিকভাবে বেশ কিছুদিন নাকি অসুস্থতা বোধ করছে। সাথে অফিশিয়াল কাজ। সবমিলিয়ে আসার সম্ভাবনা ক্ষীন। পরে ফোন দিলাম বন্ধু রনিকে। সে আমি এ.কে.খান মোড়ে জানার পর বললো, আমি ভাটিয়ারি দিয়ে তোমার আগেই পৌঁছে যাবো। যাহোক প্রায় ঘন্টা খানেক অপেক্ষার পর বন্ধু সালাউদ্দিন আসলো।

এরপর দুজনেই বারইয়ার হাট যাবার উদ্দেশ্যে গাড়িতে চেপে বসলাম। আলাপ-আলোচনার পর শুরু হলো বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ। বন্ধু আলমের মোবাইলে ফোন দিলে অপর প্রান্ত থেকে সুরেলা কণ্ঠে বলা হলো, শুক্রবার দিনটাও কী ওকে বাসায় থাকতে দেবেন না? যা হোক, বন্ধু মহিউদ্দিনকে ফোন দিলে সে জানায়, ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছে।

একটু পরে বারইয়ার হাট যাবে। ইঞ্জিনিয়ার মানুষতো। আর কাজের চাপও একটু বেশি। তার ওপর ফ্যামিলি প্রোগ্রাম আয়োজন কমিটির আহবায়ক। যা হোক, এরপর এম আই করিম, এটিএম রেদোয়ান বারী, নাঈম সহ আরো কয়েকজন বন্ধুর সাথে যোগাযোগ করা হলো। সকাল এগারটা নাগাদ বারইয়ার হাট বাস স্টপেজ এ নামলাম আমি আর সালাউদ্দিন। বাস থেকে নেমে শরীরটা একটু সতেজ করতে হবে। তাই দুজনেই চললাম  হোটেলের দিকে।

ইতোমধ্যে আমি আলমকে ফোন দিলে, সে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আসছে বলে জানায়। একইসাথে আমাদেরকে ধানসিঁড়ি হোটেলে বসতে বলে। আমরাও আর দেরি না করে হোটেলে ঢুকে হাত-মুখ ধুয়েই গরম গরম সিঙারা, রোল খেতে বসে গেলাম। ইতোমধ্যে বন্ধু মহিউদ্দিন এসে হাজির।

তাকে অনুসরণ করতে করতে সেখানে বন্ধু স্বপন, আলম, বারী, রনি প্রবেশ করলো। সকলেই চা-নাস্তা সেরে সংক্ষিপ্ত আলাপ-আলোচনা করে বেরিয়ে পড়লাম। ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডের চিপা আইল্যান্ডের দুই ফাঁকদিয়ে কোনোক্রমে টেনেটুনে নিজেকে বের করে নিয়ে রাস্তার পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে পার হলাম। 

শুরুতেই গেলাম বন্ধু শাহাদাত হোসেন সাদেকের দোকানে। সেখানে সপরিবারে তার রেজিস্ট্রেশন করা ছাড়াও ফটোসেশন করলাম। সেখান থেকে গেলাম আরেক বন্ধু মোহাম্মদ শাহীনের এর দোকানে। সেখানে সে নাছোড় বান্দা। চা না খাইয়ে ছাড়বে না। একইসঙ্গে সে তার মেয়ের বিয়ের দাওয়াত দিতেও ভুললো না। রং চা,সাথে বিস্কিট গ্রহণের পর আবার আরেক বন্ধু কামরুল ইসলামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দিকে চললাম।

এরপর গেলাম বন্ধু মোহাম্মদ স্বপনের চশমার দোকানে। সেখানে বন্ধু জামশেদসহ আরো দু�একজন বন্ধুকে পেলাম। কথা বললাম। ভাব বিনিময় করলাম। পরবর্ত ীতে পুলক রায়ের সাথে দেখা। এরপর জুমার নামাজ শুরু হতেই বন্ধুরা বারইয়ার হাট কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজ আদায়ের জন্য প্রবেশ করলো।

ইত্যবসরে আমিও একটু ঘুরে দেখার মানসে সামনে দু কদম বাড়ালাম। বারইয়ার হাট-খাগড়াছড়ি সড়কের একটু গেলেই রেললাইনের পাশে দেখলাম কাচা তরকারি এবং মাছের বাজার। মাছের বাজারে ঘুরে দেখলাম। কারণ  দেশি মাছ কিংবা স্থানীয় মাছ বা সমুদ্রের ফ্রেশ মাছ আমার প্রিয়। কিন্তু হতাশার ব্যপার হলো, সেখানে বেশির ভাগই ট্রলারের মাছ। হয়তো দুপুর বেলা হওয়াতেও হয়তো স্থানীয় বা ভালো মাছগুলো আগেই বিক্রি হতে পারে।

জুমার নামাজ শেষ হলো। সমজিদের সামনেই রয়েছে জনৈক সুমনের জুয়েলারি শপ। সম্ভবত সেটি সম্প্রতি চালু হয়েছে। বন্ধু রেদোয়ান সেখানে আমাদের বন্ধু জাফরসহ কয়েকজন সিনিয়র ভাই এর সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো। সেখানে কিছুক্ষণ আড্ডা হলো, সাথে ছবি তোলার কাজ। আমাদের বন্ধু বারইয়ারহাট বনফুল মিষ্টির দোকানের সত্ত্বাধিকারী এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাফর আহমেদ আমাদেরকে তার প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে স্থান ত্যাগ করলো। আমরাও আমন্ত্রণ গ্রহণ করলাম।

যথারীতি দুপুরের খাবারের সময় হয়ে গেলো। বন্ধুরা বসে  লাল শাক, বিভিন্ন ভর্তা, মোলা মাছ এবং চিড়িং মাছ দিয়ে সাদা ভাত খেয়ে নিলাম। ইতোমধ্যে আমাদের সাথে এম আই করিম যোগ দিলো। পরে সবাই মিলে আবার কাজে মনোনিবেশ। যথারীতি মিষ্টির দোকানে বন্ধু জাফরের সাথে সাক্ষাৎ এবং ছবির ফ্রেমে নিজেদের ধারণ করা।

আসল কাজটা কিন্তু  এখনো বাকি। যাত্রা শুরু হলো ২৩ ডিসেম্বর আমাদের বন্ধু ও পরিবারের মিলন অনুষ্ঠানের ভেন্যু মহামায়া লেকের উদ্দেশ্যে। টেম্পোযোগে সেখানে পৌঁছলাম।

শুরুতেই গেলাম ময়ামায়া লেকের পার্কিং এর কাছে নির্মিতব্য রেস্টোরা-তে। চতুর্দিকে ঘুরে দেখলাম। বসে খাওয়া, আমাদের সন্তানদের একটু রিলাক্সে সময় কাটানো কিংবা ওয়াশরুমের ব্যবস্থা-এ সব দেখা হলো। সাথে ছিলেন ঐ রেস্তোরার কর্ণধার মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এরাদুল হক ভুট্টো নিজামী। সাথে ছিলেন সেখানকার বাবুর্চিসহ আরো দু‘একজন। যা হোক, ভুট্টো ভাইয়ের সৌজন্যে সেখানে হালকা চা-পরটা আর সাথে দেশীয় পাকা কলা।

সেখান থেকে আবার ভেন্যুর ব্যাপারে মহিউদ্দিন ভাইয়ের সাথে আলাপ-আলোচনা। সেখানে বাধলো আরেক বিপত্তি। ঐ দিন অর্থাৎ ২৩ ডিসেম্বর নাকি ঐ একই মাঠে আরো একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে। তা শুনে আমাদের সকলের মেজাজ একটু খারাপ হয়ে গেলো। যা হোক অবশেষে তাও সামাল দেওয়া সম্ভব হলো। তবে এক্ষেত্রে আরো কিছু অতিরিক্ত খরচা করতে হলো।

ভেন্যুর বিষয়টা সমাধা করে সন্ধ্যাপরবর্তী সময়ে আবার বারইয়ার হাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা। সেখানে আরো কাজ বাকি আছে। টেম্পো চলছে সামনের দিকে। হিমেল হাওয়ার দাপট। কিছুক্ষণ পর আমরা যথারীতি পৌছলাম বারইয়ার হাটে।

সেখানে বন্ধু এম এম আশরাফ হোসেনের হারবাল সেন্টারে এবং তার ট্রাভেল এজেন্সিতে বসে প্রবাসী বন্ধু মোহাম্মদ ইব্রাহীম ছাদেক মুকুট, স্কেভেটর ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আনোয়ারসহ কয়েকজন বন্ধুর রেজিস্ট্রেশন কাজ সম্পাদন করা হলো। সেখানে আবার স্থানীয় একজন ভালো মানের বাবুর্চি এনে রেস্তোরার বাজেটের পাশাপাশি বিকল্প আরেকটা বাজেট নেওয়া হলো।

অনেক হিসাব-নিকেশ করার পর বন্ধু আলম, স্বপনসহ অন্যদের এ ব্যাপারে সামনে অগ্রসর হওয়ার অনুরোধ জানানো হলো। ইতোমধ্যে বন্ধু আনোয়ারের বায়না, চা না খাইয়ে ছাড়ছি না।

কি আর করা, পাশের দোকানে বন্ধুরা সবাই মিলে আবার আনোয়ারের সৌজন্যে ”দই-চা“ খাবার পর রাস্তায় এসে শহরের উদ্দেশ্যে যাত্রার লক্ষ্যে সালাউদ্দিন, মাসুদ, রনি, সিরাজ, আর আমি প্রায় ঘন্টা খানেক চেষ্টার পর অবশেষে আমাদের জন্য একটা সম্পূর্ণ নতুন বাস, এমপি ট্রাভেল্স এসে হাজির।

আর আমরা পাঁচ বন্ধু উঠে দেখি, আমরাই  ঐ বাসের প্রথম যাত্রী। রনি পুরো বাস খালি দেখে খুশিতে আত্মহারা। সে বলে উঠলো, দেখছোস, এটা আমার শ্বশুড়ের গাড়ি। হা—–হা–

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here