মহান প্রবারণা পূর্ণিমা : সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির উৎসব

0
9

ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিটি উৎসব আমাদের জাগ্রত করে, সত্য ও সুন্দরকে লালন করে গঠনমূলক পবিত্র কর্মের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুদৃঢ় সংকল্প। তেমনি মহান প্রবারণা পূর্ণিমা জীবন শুদ্ধিতা ও প্রজ্ঞাময় চৈতন্যের আহ্বান নিয়ে আসে। 

এ শুভ দিনে মনে জাগে বিশুদ্ধ আত্মচেতনা, সামাজিক মৈত্রী, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বাতাবরণ। তথাগত বুদ্ধজীবনের স্মৃতিকে ভাস্বর করার মানসে উৎসবের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে আকাশপ্রদীপ অর্থাৎ রঙিন ফানুস উত্তোলন। 

রাজকুমার সিদ্ধার্থ গৃহত্যাগ করে যখন মল্লারাজ্যের সীমান্তে অনোমা নদীর তীরে গিয়ে উপনীত হন। তথায় সিদ্ধার্থ নিজের মাথার চুল নিজ তলোয়ার দিয়ে ছেদন করে আকাশমার্গে চুলগুচ্ছ ছুড়ে দেন। সেই উত্থিত কেশরাশি স্বর্গের দেবরাজ ইন্দ্র নিয়ে গিয়ে স্বর্গে চুলামনি জাদি নির্মাণ করেন।  আর তাই আকাশে ফানুস উড়ানোর মধ্য দিয়ে বুদ্ধের চুলধাতুকে পূজা করা করা হয়। বলাবাহুল্য সারাদেশে এ ফানুস উত্তোলন দেখার জন্য জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সামিল হয়। এতে করে আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও বন্ধু-বান্ধব-শুভাকাক্সক্ষী পরস্পরের মধ্যে কুশল বিনিময় হয়ে থাকে। 

বৌদ্ধধর্মে জাতিভেদ নাই, সকল মানুষই সমান, মানুষ কর্মের দ্বারাই শ্রেষ্ঠ হয়। বুদ্ধ বলেছেন- সংগ্রামে সহ¯্র মানুষকে জয় করার চেয়ে আত্মজয়ই শ্রেষ্ঠ জয়। তাই আমাদের উচিত, প্রবারণার আলোকে নিজেদের সৎ করবো, আত্মসমর্পণের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির জন্য সচেষ্ট থাকবো, এই হোক প্রবারণা পূর্ণিমার অঙ্গীকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here