নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়কে বখতিয়ার খিলজী নয়, ব্রাহ্মণ্যবাদীরাই ধ্বংস করেছিল

0
10

ড. বরসম্বোধি ভিক্ষু:

ভারতবর্ষ হলো এক অতি প্রাচীন দেশ। ইহাকে অতীতে জম্বুদীপও বলা হতো। ইহার সীমা ছিল প্রায় অর্ধেক এশিয়া জুড়ে। ভারতের ছিল অতীব বৈভবশালী সংস্কৃতি। সমতা, ন্যায়, ভ্রাতৃত্ব, মৈত্রী, করুণা প্রভৃতি গুণাবলী পৃথিবীকে ভারত শিক্ষা দিয়েছে। ইহাকে ভগবান বুদ্ধের শ্রমণ সংস্কৃতিও বলা হয়। ভগবান বুদ্ধের আবির্ভাবে ভারতবর্ষের মনুবাদ, ব্রাহ্মণবাদ, ছঠতাপূর্ণ শোষণবাদ প্রভৃতি ম্রীয়মান হয়ে গিয়েছিল। বুদ্ধের সামাজিক সাম্যবাদের আদর্শে ব্রাহ্মণ্যবাদ টিকতে পারছিলনা। সর্বত্র শ্রমণ সংস্কৃতিই দেখা যাচ্ছিল। জাতিবিহীন, শোষণ বিহীন মানবতার বিচারধারাই সর্বত্র প্রসারিত হচ্ছিল। পরবর্তী সময়ে বুদ্ধের এ ক্রান্তি বা জাগরণের বিরুদ্ধে প্রতিক্রান্তি করার জন্য ব্রাহ্মণ্যবাদীরা প্রচেষ্টায় রত ছিল। তাদের লক্ষ্য পূরণের জন্য তারা বিভিন্ন সময়ে শক্তির সাহায্য নিয়েছিল। কখনও য়ুনানীদের, কখনও আরবীয়দের, কখনও তুর্কীদের, কখনও মোঘলদের এবং কখনও বিদেশী লুঠেরাদেরও শরণাপন্ন হয়েছিল। 

বর্তমান সময়ের প্রখ্যাত আলোচিত ঐতিহাসিক অধ্যাপক ড. রাম পুনিয়ানী, যিনি আই, আই. টি মুম্বইতে অধ্যাপনা করেছেন এবং যিনি ২০০৭ সালে ‘নেশন্যাল কম্যুনাল হারমোনি এওয়ার্ড’ দ্বারা সম্মানিত হয়েছেন, তিনি অতীব গুরুত্বপূর্ণ এক আলেখ্য প্রস্তুত করেছেন। আমার বর্তমান লেখাটি হল  তাঁর লেখা হতেই সংগৃহীত উপাদান। তিনি বলেছেন যে, ভারতবর্ষের ইতিহাস রচয়িতারা জনগণের কাছে কখনও সঠিক ইতিহাসকে উপস্থাপন করেননি। তাঁরা সবসময় সত্যকে গোপন করে ইতিহাসকে বিকৃতভাবে এদিক-ওদিক ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে রচনা করেছেন ইতিহাস। কেননা অধিকতর ইতিহাস রচয়িতারা হলেন ব্রাহ্মণ্য মানসিকতা সম্পন্ন। এজন্য তাঁরা নিজেদের কৃত দুষ্কর্মকে ঢাকার জন্য অন্যের উপর দোষারোপন করে সবসময় মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমান ভারতবর্ষে সর্বত্র চলছে সাম্প্রদায়িক হিংসা-বিদ্বেষ। বহুসংখ্যক হিন্দুত্ববাদী ব্রাহ্মণ্য কট্টরপন্থীদের শিকারে পরিণত হচ্ছে সমাজের দুর্বল বা দলিত বর্গ ও ধার্মিক সংখ্যালঘুরা।বিভিন্ন মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে তারা হিংসা-বিদ্বেষ ছড়িয়ে সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করছে।

সমাজে হিংসা-বিদ্বেষ প্রসারণের সবচেয়ে উত্তম পন্থা হচ্ছে ঐতিহাসিক ঘটনা সমূহের বিকৃত ও কাটাছেড়া করে ভুলভাবে উপস্থাপন করা। এসময় ভারতীয় ইতিহাসের প্রাচীন, মধ্য ও আধুনিক-এ তিন কালের ঘটনাবলীকে বিকৃত ও উল্টা-পাল্টা করা হচ্ছে।যে সকল ঐতিহাসিক ভারতীয় ইতিহাসকে যৌক্তিক বিচার করতে প্রয়াস করছেন, তাঁদের উপর নগ্ন আক্রমণ করা হচ্ছে। ব্রাহ্মণ্যবাদীদের অতীত হতে চলে আসা ঘৃণিত চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে প্রয়াস অব্যাহত রেখেছে। তারা নিষ্ঠাবান ও যৌক্তিক বিচার ধারার ঐতিহাসিকদের সবদিক থেকে কোন ঠাসা করার সবরকমের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যৌক্তিক ঐতিহাসিকেরা ভারতীয় অতীতকে ভারতীয় রাষ্ট্রবাদী এবং সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রবাদীরূপে পৃথক পৃথকভাবে দেখে থাকেন। এ উভয় ব্যবস্থার মধ্যে সম্বন্ধ তো দেখাই যায়না, বরং পরস্পর বিরোধই পরিলক্ষিত হয়। কোন কোন ঐতিহাসিক সাম্প্রদায়িক ইতিহাসকে বিকৃত ও ভুলভাবে উপস্থাপন করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে নিজেদের সম্পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করেছেন। তাঁরা কখনও শঙ্কিত হননি যে, এরকম করলে তাঁদের জীবনের হুমকিও আসতে পারে। তাঁদের মধ্যে দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের পূর্ব বিভাগাধ্যক্ষ প্রফেসর ডি. এন. ঝা ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি প্রাপ্ত ঐতিহাসিক। তাঁকে ব্রাহ্মণ্যবাদীরা অনেকবার প্রাণে মারার জন্য হুমকি-ধমকি দিয়েছিল। ২০২১ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি তাঁর প্রয়ানে ইতিহাসের ক্ষেত্রে কেবল দেশের মহাক্ষতি সাধিত হয়নি, আন্তর্জাতিক স্তরেও অপুরণীয় হানি হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে তাঁদের মধ্যেও এক বিরাট ধাক্কা লেগেছে, যাঁরা ভারতবর্ষের বহুত্ববাদী চরিত্র ও যৌক্তিক ইতিহাসের প্রচার-প্রসারে ও সংরক্ষণে কাজ করছিলেন।

অধ্যাপক ঝা ছিলেন যৌক্তিক ইতিহাসকে সঠিক ও নিরপেক্ষ ভাবে উপস্থাপনকারীদের মধ্যে অন্যতম। তিনি স্বীয় গভীর অধ্যয়নের দ্বারা প্রাচীন ও মধ্য কালীন ইতিহাসকে সঠিক ও নিরপেক্ষভাবে বুঝতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং তাঁর লেখনীর মাধ্যমে সত্যিকার ইতিহাস উপস্থাপন করে আমাদেরকে সহায়তা করেছেন। তাঁর পুস্তক ‘গুঃয ড়ভ ঐড়ষু ঈড়’ি প্রকাশ হওয়ার পর তাঁকে ব্রাহ্মণ্যবাদীরা প্রাণে মারার জন্য ফোনে হুমকি দিয়েছিল। তাঁর সে পুস্তক লিখার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল কিভাবে দলিত এবং সংখ্যালঘু মুসলিমদেরকে আতঙ্কিত করা হচ্ছিল। কিভাবে তাঁদেরকে হত্যা করা হচ্ছিল সে সবের বর্ণনা তিনি তুলে এনেছেন। আমরা তো কখনও ভুলতে পারবনা, এক মৃত গাভীর চামড়া নেওয়ার অপরাধে চার দলিতকে পিটিয়ে মারার দৃশ্যকে। অধ্যাপক ঝা’য়ের গ্রন্থটি হল হিন্দুধর্মের উপর গভীর অধ্যয়নের ফসল। সেখানে বলা হয়েছে যে, গোমাংস প্রাচীন ভারতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যের অংশ ছিল। বৈদিক এবং উত্তর বৈদিক উভয়কালে ভারতে গোমাংস খাওয়া হত। অধ্যাপক ঝা স্বীয় পুস্তকে মূল গ্রন্থ সমূহের উদ্ধৃত করে গোমাংস খাওয়ার অকাট্য প্রমাণ তুলে ধরেছেন। ড. ঝা তাঁর গবেষণায় যা প্রমাণ করেছেন, তা বাবা সাহেব ড. আম্বেদকর এবং তাঁর মত অন্য অনেক বিদ্বেনেরা পূর্ব হতেই বলে আসছিলেন। 

বাবা সাহেব ড. আম্বেদকর তাঁর ‘ডযড় বিৎব ঝযঁফৎধং?’ পুস্তকে ইহাই বলেছেন। স্বামী বিবেকানন্দেরও এরূপ মান্যতা ছিল এবং তিনি বলেছেন যে-‘তোমরা আশ্চর্য হবে, প্রাচীনকালে ইহা মান্য করা হত যে, যারা গোমাংস খায়না, তারা ভাল হিন্দু নয়। একজন ভাল হিন্দু হওয়ার জন্য কোন কোন পর্বে ষাঁড় বলি দিয়ে তার মাংস খাওয়া ছিল বাধ্যতামূলক।’ স্বামী বিবেকানন্দ এ কথা ২রা ফেব্রুয়ারি ১৯০০ সালে আমেরিকার কালিফোর্নিয়া রাজ্যের পেসেডেনিয়া শহরে স্থিত সেক্সপিয়ার ক্লাবের সভায় বুড্ডিষ্ট ইণ্ডিয়া বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ইহা বলেছিলেন। ইহার বিবরণ ‘ঞযব ঈড়সঢ়ষবঃব ড়িৎশং ড়ভ ঝধিসর ঠরাবশধহধহফধ,  ঠড়ষ.৩, কোলকাতা অদ্বৈত আশ্রম, ১৯৯৬, পৃষ্টা ৫৩৬ এ উল্লেখ আছে। আপনারা তা পড়ে দেখতে পারেন। অধ্যাপক ঝা’য়ের বিদ্বতাপূর্ণ পুস্তকে সে আন্দোলনকে শক্তিশালী সমর্থন দিয়েছিল, যা ভারতবর্ষে খাদ্যাভ্যাস সম্বন্ধিত বিষয়ে বিবিধতাকে চালু রাখতে কাজ করা হচ্ছে। যারা সাম্প্রদায়িক হিংসা প্রসারণ করছে, তাদের সাথে গো-মাতার কোন প্রেমই নাই।এ কথার প্রমাণ পাওয়া যায়, সম্প্রতি রাজস্থানের হিঙ্গুনিয়ার এক গোশালায় শত শত গাভী অনাহার ও রোগে মৃত্যু বরণ করেছে। কিন্তু গো-ভক্তদের কান পর্যন্ত সে সংবাদ পৌঁছলেও এতে তাদের কোন হেলদোল নাই। বিজয় ত্রিবেদীর ‘হার নেহি মানুঙ্গা’ শীর্ষক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর জীবনী গ্রন্থে লিখেছেন যে, শ্রী বাজপেয়ী আমেরিকায় গরুর মাংস খেতে গিয়ে হাস্যচ্ছলে সাংবাদিকদেরকে বলেছিলেন, তিনি গরুর মাংস খেয়ে ভুল কিছু করছেননা, কেননা এ গরুর মাংস হল আমেরিকার গাভীর। ভারতের নয়।’ 

গতবছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের উদ্বোধন করেছেন। এরপর রাম মন্দিরের জন্য চাঁদা তোলার কাজ জোরের সাথে চালু রয়েছে। চাঁদা সংগ্রহকারীরা ইতিহাস শুনার জন্য একদম তৈরী বা প্রস্তুত নয়। রাম মন্দির সম্পর্কিত ঐতিহাসিকেরা এক রিপোর্ট তৈরী করেছিলেন। সে রিপার্টের শীর্ষক ছিল-‘রাম জন্মভূমি বাবরি মসজিদ-এ হিস্টিরি টু দ নেশন’ ইতিহাসবিদদের যে প্যানেল এ রিপোর্ট তৈরী করেছেন, তাঁদের মধ্যে অধ্যাপক ঝাও ছিলেন অন্যতম। রিপোর্টে বলা হয়েছে যে-‘বাবরি মসজিদের নির্মাণ যে রাম মন্দিরকে ভেঙ্গে করা হয়েছে, এ কথার ঐতিহাসিক প্রমাণ যেমন নাই, তেমনি যে স্থানে মসজিদ রয়েছে, সেখানে যে রামের জন্ম হয়েছে, তারও প্রমাণ নাই।’ সুপ্রিম কোর্ট ঐতিহাসিকদের এ রিপোর্টকে খারিজ করে দিয়েছিল। কিন্তু যারা মসজিদ ভেঙ্গে দিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে কোন কার্যকর ভূমিকা না নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট সবাইকে মুক্ত করে দিয়েছে। এখন আসি বিহারের নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংসের অপবাদ অনেক বছর হতে তুর্কী আক্রমণকারী ইক্তিয়ার উদ্দীন মুহম্মদ বিন বক্তিয়ার খিলজীর উপর চাপানো হচ্ছে। খিলজী দেশের অন্য স্থানের অনেক স্থাপত্যের উপর উৎপাত ও লুণ্ঠন করে থাকলেও কিন্তু নালন্দায় যে তিনি আক্রমণ করেছেন বা তাতে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছেন, সেরকম তথ্য নির্ভরযোগ্য ইতিহাসে কোথাও পাওয়া যায়না। বরং ব্রাহ্মণ্যবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তিই নালন্দাকে বিধ্বংস করেছে তার তথ্য অনেক রয়েছে। তারা কেন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়কে নষ্ট করেছে? তার কারণ ছিল, বৌদ্ধধর্মের উত্তরোত্তর প্রভাব বৃদ্ধি প্রতি তাদের জ্বলন উৎপন্ন হয়েছিল। বিভিন্ন উৎসের উদ্ধৃতি দিয়ে অধ্যাপক ড. ডি. এন. ঝা লিখেছেন যে-‘বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং ব্রাহ্মণদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতে থাকত। শাস্ত্র বিষয়ে তর্কও হত। ব্রাহ্মণেরা বৌদ্ধ ভিক্ষুদের উপর এমনভাবে ক্ষেপে গিয়েছিল যে, ভিক্ষুদেরকে ধ্বংস করার জন্য তারা ১২ বছর পর্যন্ত ভগবান সূর্যের যজ্ঞ করেছিল এবং পরে যজ্ঞ কুণ্ডের জ্বলন্ত অঙ্গার সমূহ বৌদ্ধ মন্দির সমূহে নিক্ষেপ করেছিল। এ কাজে তাদের সহায়ক ছিল বৌদ্ধ বিদ্বেষী দক্ষিণ ভারতীয় কট্টর ব্রাহ্মণ্য শাসক সেনবংশের রাজারা। তারা যে সমস্ত বৌদ্ধ ইমারত সমূহে হামলা করেছিল, সেগুলির মধ্যে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ও অন্তর্ভূক্ত ছিল। সেখানকার অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং বিশাল পুস্তকালয়, যাকে রত্নবোধি বলা হত, তাও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল।’এ গৌরবপূর্ণ প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়কে ধ্বংসের জন্য বক্তিয়ার খিলজীর উপর যাবতীয় দোষ চাপিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল, ব্রাহ্মণ্য ও বৌদ্ধ ধর্মের মধ্যে দীর্ঘকাল হতে যে সংঘর্ষ চলে আসছিল, তা হতে দৃষ্টি অন্যদিকে ফিরানোর জন্য এরকম ষড়যন্ত্র রচনা করা হয়েছে। ম্যাঙ্গালোরে পূর্ব আর. এস. এস. প্রচারক প্রমোদ মুত্তালিকের নেতৃত্বে শ্রীরাম সেনা দ্বারা আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কিছু যুবতী মদ্যপান করছিল। এ ঘটনার পরে অধ্যাপক ঝা এক পুস্তক লিখেছিলেন। পুস্তকের শীর্ষক ছিল ‘ঞযব উৎরহশ ড়ভ ওসসড়ৎঃধষরঃু’. এ পুস্তকে অধ্যাপক ঝা লিখেছেন যে, কিভাবে প্রাচীন ভারতে বিভিন্ন প্রকারের মদ্য তৈরী করা হত এবং নারী-পুরুষ উভয়ে ভরপুর মদ্যপান করত। তিনি সাথে সাথে ইহাও সিদ্ধ করেছেন যে, বেদ সমূহে, রামায়ণ ও মহাভারতে মদ্য পানের চর্চা রয়েছে। অধ্যাপক ঝা হলেন সে সকল বিদ্বানদের মধ্যে অন্যতম, যাঁরা সক্রিয়রূপে এক উৎকৃষ্ট সমাজ নির্মাণের আন্দোলনে নিজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি এরকম এক সমাজের রচনা করতে চেয়েছেন, যে সমাজে বিবিধতা ও বহুত্ববাদকে সম্মান করে থাকে। এক এরকম সমাজের চিন্তা করেছেন, যে সমাজ দলিত এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকারকে মর্যাদা দেয়। অধ্যাপক ঝা একজন ব্রাহ্মণ হয়েও তিনি সত্যিকার ইতিহাসকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে চর্চা করেছেন, সত্যটা তুলে ধরেছেন।

দেশে মনুবাদী ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠন সমূহ যেভাবে ইতিহাসকে নিয়ে খেলা করছে, বিকৃত করছে, উল্টা-পাল্টা করছে এবং ভুলভাবে উপস্থাপন করছে, জীবনে মৃত্যুর হুমকি নিয়েও তিনি সেগুলির প্রতিবাদ করেছেন, সত্য উন্মোচন করে অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং মিথ্যার ছায়া অপসারণ করেছেন। তাঁর রচিত গবেষণা পূর্ণ গ্রন্থ সমূহ বিশ্বের ঐতিহাসিকদের কাছে সমাদর লাভ করেছে।আমাদের মধ্যে অধিকাংশ মানুষ ব্রাহ্মণ্য মনুবাদীদের লিখিত মনগড়া ইতিহাস পড়ে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংসের জন্য মুহম্মদ বিন বক্তিয়ার খিলজীকে যে দোষারোপ করে থাকেন, তা ইতিহাস অজ্ঞতার কারণেই করে থাকেন। এজন্য সঠিক ও সত্যিকার ইতিহাস চর্চা প্রয়োজন। এ সম্পর্কে পূর্বেও আমি লিখেছিলাম। কিন্তু সেগুলি না পড়ার কারণে বা হিন্দু প্রীতির কারণে কেহ কেহ মূর্খতাপূর্ণভাবে অমূলক মন্তব্য করে থাকেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here