শৃঙ্খলা হলো একটি ধারাবাহিক অভ্যাস। সুশৃঙ্খল জীবন পেতে হলে সবার প্রথমে দরকার ইচ্ছাশক্তি। আলস্য এবং অজুহাতকে গ্রাহ্য না করে লক্ষ্যে স্থির হয়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিই সুশৃঙ্খল জীবনের প্রকৃত পদক্ষেপ। অবশ্য এর জন্য রাতারাতি অভ্যাস পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। বরং ধীরে ধীরে এগিয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। আর তাতে সাহায্য করবে কয়েকটি অভ্যাস।
নির্দিষ্ট রুটিন
জীবনে শৃঙ্খলা আনতে প্রথমে নিজেই একটি রুটিন তৈরি করে ফেলুন। কোন কাজের পর কোন কাজটি করবেন, তা দিনের শুরুতেই মনে মনে স্থির করে নিন। প্রয়োজনে লিখে রাখুন। প্রথমে যেকোনো একটি অভ্যাস বেছে নিন। যেমন- শরীরচর্চা, পড়াশোনা, প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠা ইত্যাদি। ক্রমে সেটিই দেখবেন অভ্যাস হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ
মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা চারপাশের নানা ঘটনার জেরে বিভ্রান্তি আসা স্বাভাবিক। সে কারণেই অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলো জীবনে এগিয়ে চলার পক্ষে এক একটি বাধা। এগুলো কাটিয়ে ওঠতে প্রয়োজন মানসিক জোর। প্রলোভনকে জয় করে নিজের পরিবেশ পরিবর্তনের চেষ্টা করুন। নির্দিষ্ট সময়ের বেশি মোবাইল ফোন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি নিজেকেই বন্ধ করতে হবে।
কঠিন কাজগুলো আগে করুন
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কঠিন কাজ আগে সেরে নিলে পরের কাজগুলো আরও সহজ হয়ে যায়। ফলে উৎপাদনশীলতা অনেকখানি বেড়ে যায়।
সিদ্ধান্ত নয়, শৃঙ্খলায় বিশ্বাস
গবেষণায় দেখা গেছে, সিদ্ধান্ত কিংবা অনুপ্রেরণার আয়ুষ্কাল বড় কম। কারও অনুপ্রেরণায় সঠিক কাজ করার সিদ্ধান্ত সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমে আসে। তার চেয়ে সেই সঠিক কাজটিকে অভ্যাসে পরিণত করলে জীবনের শৃঙ্খলা আসবে সহজে।
স্পষ্ট লক্ষ্য
সুশৃঙ্খল জীবনের জন্য একটি স্পষ্ট লক্ষ্য থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে নিজের লক্ষ্যের তালিকা তৈরি করুন। একটি করে ধাপ পেরোতে শুরু করলেই দেখবেন আপনার আগ্রহ বাড়ছে। জীবনে ধারাবাহিকতা বজায় থাকছে।
বিরতি নেওয়া
সুশৃঙ্খল জীবন পেতে বিরতিরও প্রয়োজন আছে। একটানা মানসিক চাপ, দীর্ঘক্ষণ ধরে কাজ, ইত্যাদি শরীর এবং মনকে ক্লান্ত করে তোলে। ফলে উৎপাদনশীলতা কমতে থাকে। তাই মাঝে মধ্যে বিরতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।